ইসলামে স'হ'বা'সের নি'ষি'দ্ধ সময়,জেনে নিন
ইসলামে সহবাসের নিষিদ্ধ সময়,,
এমন কিছু সময় আছে যখন সহবাস করা হারাম। এই নিষিদ্ধ সময়(Prohibited time) সহবাস করলে গোনাহগার হবেন। ইসলাম এই সময়গুলোতে নিজেদেরকে সহবাস থেকে বিরত রাখার কথা বলেছে। কেউ যদি সঙ্গম করে ফেলে তার জন্য তওবা করতে হবে এবং কাফফারা আদায় করতে হবে।
১. স্ত্রীর মাসিকের সময়
স্ত্রী যখন ঋতুবতী অবস্থায় থাকে তখন যৌন মিলন করা যাবে না। তাই মাসিকের সময়(menstruation time) সহবাস করা হারাম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন-
وَ یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡمَحِیۡضِ ؕ قُلۡ ہُوَ اَذًی ۙ فَاعۡتَزِلُوا النِّسَآءَ فِی الۡمَحِیۡضِ ۙ وَ لَا تَقۡرَبُوۡہُنَّ حَتّٰی یَطۡہُرۡنَ ۚ فَاِذَا تَطَہَّرۡنَ فَاۡتُوۡہُنَّ مِنۡ حَیۡثُ اَمَرَکُمُ اللّٰہُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ التَّوَّابِیۡنَ وَ یُحِبُّ الۡمُتَطَہِّرِیۡنَ
অর্থ- আর তারা তোমাকে হায়েয(মাসিক) সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তা কষ্ট। সুতরাং তোমরা হায়েযকালে স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে তখন তাদের নিকট আস, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে।(সূরা বাকারা- ২২২)
হাদিসেও এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া এসময় সহবাস করলে রোগ-ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২. রোজা থাকা অবস্থায়
اُحِلَّ لَکُمۡ لَیۡلَۃَ الصِّیَامِ الرَّفَثُ اِلٰی نِسَآئِکُمۡ ؕ ہُنَّ لِبَاسٌ لَّکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ لِبَاسٌ لَّہُنَّ ؕ عَلِمَ اللّٰہُ اَنَّکُمۡ کُنۡتُمۡ تَخۡتَانُوۡنَ اَنۡفُسَکُمۡ فَتَابَ عَلَیۡکُمۡ وَ عَفَا عَنۡکُمۡ ۚ فَالۡـٰٔنَ بَاشِرُوۡہُنَّ وَ ابۡتَغُوۡا مَا کَتَبَ اللّٰہُ لَکُمۡ ۪ وَ کُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَکُمُ الۡخَیۡطُ الۡاَبۡیَضُ مِنَ الۡخَیۡطِ الۡاَسۡوَدِ مِنَ الۡفَجۡرِ۪ ثُمَّ اَتِمُّوا الصِّیَامَ اِلَی الَّیۡلِ ۚ وَ لَا تُبَاشِرُوۡہُنَّ وَ اَنۡتُمۡ عٰکِفُوۡنَ ۙ فِی الۡمَسٰجِدِ ؕ تِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ فَلَا تَقۡرَبُوۡہَا ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ اٰیٰتِہٖ لِلنَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ
অর্থ- সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা নিজদের সাথে খিয়ানত করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবূল করেছেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন। অতএব, এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে দিয়েছেন, তা অনুসন্ধান কর। আর আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। আর তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না। এটা আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্ট করেন যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।(বাকারা-১৮৭)রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করা হারাম। তবে রমজান মাসে রাত্রি বেলায় সহবাস করা যাবে। দিনের বেলায় সহবাস করা নিষিদ্ধ। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ সঙ্গম করে ফেললে তাওবা করতে হবে এবং কাযা, কাফফারা আদায় করতে হবে।
এছাড়াও যে সময় সহবাস করা নিষিদ্ধ। তাহলোঃ
ইত্তেকাফের সময়,
হজ্জের ইহরাম বাঁধা অবস্থায়,
স্ত্রীর গর্ভপাতের ৪০ দিন সময় পর্যন্ত
উপরোক্ত সময়গুলো ছাড়া অন্যযেকোন সময় যৌন মিলন করা যাবে। এক্ষেত্রে পূর্ণিমা, আমাবস্যা, দিনের বেলা, শুক্রবার, ঈদের দিনে, ঈদের রাতে, শবে বরাতে, শবে কদরের রাতে ইত্যাদি সময় সহবাস করা যাবে এবং তা বৈধ বা হালাল। এতে কোনো ক্ষতি বা গোনাহ হবে না।
স্ত্রী সহবাসের পর ফরজ গোসলের নিয়ম
সহবাসের পর গোসল(Bath after sex) করতে হয়। এক্ষেত্রে কথা হচ্ছে বীর্যপাত হলে গোসল ফরজ। আবার বীর্যপাত ছাড়াও যদি স্ত্রীর লাজ্জাস্থানে সঙ্গম করা হয় তাহলেও গোসল ফরজ হয়ে যাবে। যৌন মিলনের পরেই দ্রুত গোসল করে নেওয়া উত্তম। পরে করলেও সমস্যা নেই। তবে নামাজের পূর্বে অবশ্যই গোসল করে নিতে হবে।এক্ষেত্রে ইসলামে ফরজ গোসলের নিয়ম পালন করতে হবে। এই গোসল স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সহবাস স্বামী-স্ত্রীর মধু মিলন। স্বামী স্ত্রী উভয়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বুঝে যৌন মিলন করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রত্যেক মুসলিমকে অবশ্যই ইসলামিক নিয়ম মানতে হবে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে সঠিক নিয়মে সহবাস করার তৌফিক দান করুন। আমীন
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.
Post a Comment